Thursday, March 6, 2014

মুখের দুর্গন্ধ ও সচেতনতা



 মুখের দুর্গন্ধ ও সচেতনতা   

আবেগ প্রকাশের যত মাধ্যম আছে ভাষা বা কথা বলা তার মধ্যে অন্যতম। কথার দ্বারা ‍যত তারাতারি কারো মন জয় করা যায় আর কোন মাধ্যমে তা সম্বব না।কিন্তু আমাদের মাঝে অনেকেই মুখে বিরক্তিকর দুর্গন্ধ হওয়ার সমস্যা রয়েছে।
এই
সমস্যা যাদের রয়েছে তারাও হয়তো নিয়মিত দাঁত পরিস্কার করেন তারপরও মুখ থেকে গন্ধটা দূর হয় না বিশেষজ্ঞরা বলেন, আসলে দাঁতগুলো ঝকঝকে পরিস্কার হলেও মুখে দুর্গন্ধ হতে পারে কারণ আমরা যে খাবারগুলো খাই, দাঁতের ফাঁকে আটকে থাকা সেই খাদ্যকণা খেয়ে মুখের ভেতরের জীবাণু বেঁচে থাকে জীবাণুগুলো যখন এসব  খাদ্যকণা খেতে থাকে, তখন খাদ্যকণা ভেঙে দুর্গন্ধযুক্ত গ্যাস উৎপন্ন হয় এই গ্যাস কথা বলার সময় দুর্গন্ধ হয়ে বেরিয়ে আসে

এছাড়া
নিয়মিত ধুমপান, মাদক সেবন, দাঁত মাড়ির ইনফেকশন, ফুসফুস-লিভারের অসুখ, সাইনোসাইটিস, ডায়াবেটিস জ্বর হলে মুখে দুর্গন্ধ হতে পারে। 

 

মুখের এই দুর্গন্ধ কেন হয়, তা নিয়ে বিজ্ঞানের গবেষণা বহুকাল যাবত্ চলে আসছে। সে সব গবেষণা থেকে সুনির্দিষ্টভাবে কয়েকটি কারণকে চিহ্নিত করা গেছে, সেগুলোর মধ্যেঃ


. প্রতিবার খাবার গ্রহণে মুখের ভিতরে খাদ্য আবরণ দাঁতের ফাঁকে, মাড়ির ভিতর জমে থেকে ডেন্টাল প্লাক সৃষ্টি এবং তা থেকে মাড়ির প্রদাহ (পেরিওডেন্টাল ডিজিজ)
.মুখের যে কোনো ধরনের ঘা বা ক্ষত
. আঁকাবাঁকা দাঁত থাকার কারণে খাদ্য কণা জীবাণুর অবস্থান
.দেহে সাধারণ রোগের কারণে মুখের ভিতরে ছত্রাক ফাঙ্গাস জাতীয় ঘা (ক্যানডিয়াসিস)
. মুখের ক্যান্সার
. ডেন্টাল সিষ্ট বা টিউমার
. দুর্ঘটনার কারণে ফ্রেকচার ক্ষত
. অপরিষ্কার জিহবা

তাছাড়া দেহের অন্যান্য রোগের কারণেও মুখের দুর্গন্ধ হতে পারে, যেমনঃ

. পেপটিক আলসার বা পরিপাকতন্ত্রের রোগ
. লিভারের রোগ
. গর্ভাবস্থা
. কিডনি রোগ
. রিউমেটিক বা বাতজনিত রোগ
. ডায়াবেটিস বা বহুমূত্র
. হাইপার টেনশন বা উচ্চ রক্তচাপ
. গলা বা পাকস্থলীর ক্যান্সার
. এইডস রোগ
১০. হূদরোগ
১১. মানসিক রোগ
১২. নাক, কান, গলার রোগ



মুখের বিরক্তিকর দুর্গন্ধ দূর করতে:



**প্রতিদিন
সকালে নাস্তার পরে রাতে শোয়ার আগে সঠিক নিয়মে দাঁত ব্রাশ ব্রাশ করার সময় কিছু ব্যাপার মাথায় রাখতে হবে। যেমন ডক্টরের পরামর্শ অনুযায়ী ব্রাশ ব্যবহার করা, প্রতি তিন-চার মাস অন্তর ব্রাশ বদলে ফেলা, মুখের প্রতিটি কোনায়, বিশেষ করে মাড়িতে ভালোভাবে ব্রাশ করা, জুস খাবার ৩০ মিনিটের মধ্যে ব্রাশ না করা, প্রয়োজন পড়লে জীহ্বা পরিষ্কার করার জন্য টাঙ ক্লিনার ব্যবহার করা ইত্যাদি।



**শুধু দাঁত নয় জিহ্বাও পরিস্কার করুন


**প্রতিবার খাবারের পর ভালোভাবে কুলকুচি করতে হবে

**ঘন ঘন প্রচুর পরিমাণে পানি বা অন্য কোনো তরল পানীয় পান করুন

**লালা   মুখের দুর্গন্ধ দূর করে, লালা তৈরি করতে লবঙ্গ বা আদা খেতে পারেন

**যেসব খাবার মুখে দুর্গন্ধ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া উত্পাদন করে সেগুলোকে এড়িয়ে চলা।যেমন- এলকোহল, সিগারেট, পেয়াজ, রসুন, মাছ ইত্যাদি মুখকে শুষ্ক করে দেয় এমন খাবার যেমন- কফি, চা ইত্যাদি পরিহার করা।

**মুখের গন্ধ দূর করতে চা অত্যন্ত কার্যকর, এক কাপ চায়ে কিছু পুদিনার পাতা বা লবণ দিয়ে কুলকুচি করে নিন মুখের দুর্গন্ধ নিমেষেই দূর হয়ে যাবে

**লেবু শুধু খাবারের স্বাদই বাড়ায় না, দূর করে মুখের দুর্গন্ধ খাবারে নিয়মিত লেবু খেলে মুখের দুর্গন্ধের সঙ্গে দূর হবে শরীরের বাড়তি মেদও

**- পেয়ারা এবং এই জাতীয় শক্ত খাবার খাওয়া। এগুলো মুখ পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে।
-
অন্তত প্রতি দু বছরে একবার ডেন্টিস্টের কাছে যাওয়া

 **সুস্থতার জন্য নিয়মিত মুখ দাঁতের অন্তত প্রতি দু বছরে একবার ডেন্টিস্টের কাছে যাওয়া


আপনি যা করবেন:


. একটি পরিষ্কার উন্নত মানের দাঁতের ব্রাশ পেষ্ট দিয়ে দাঁতের সবগুলো অংশ ভিতরে-বাইরে পরিষ্কার করুন (তিন বেলা খাবারের পর)
. জিহ্বা পরিষ্কারের জন্য জিবছলা ব্যবহার করুন। বাজারে স্টেনলেস ষ্টিল অথবা প্লাষ্টিকের জীবছুলা পাওয়া যায়
. যে কোনো ধরনের মাউথওয়াস (ক্লোরহেক্সিডিন জাতীয়) চামচ মুখে ভিতরে  ৩০ সেকেন্ড রেখে ফেলে দিয়ে আবার অল্প গরম লবণ পানিতে কুলিকুচি করুন  প্রতিদিন অন্তত দুবার সকালে রাতে আহারের পর
. সবসময় সময়ে মুখের ভিতরে একটি লং বা এলাচির দানা রাখুন
. মূল খাবারের আগে বা পরে প্রতিবার আহারের পর (যা কিছু খাবেন যেমন বিস্কুুট, ফলমূল ব্লাক জাতীয় খাবার) সম্ভব হলে দাঁত ব্রাশ করুন অথবা ভালোভাবে কুলিকুচি করে ফেলুন
. ধূমপান বা তামাকজাত দ্রব্য জর্দ্দা, পান ইত্যাদি ত্যাগ করুন, তাতে শুধু যে মুখের দুর্গন্ধ দুর হবে তা নয় মুখের ক্যান্সার প্রতিরোধ হবে

বিশেষভাবে যা করবেন:

দাঁত ব্রাশ করলেই শুধু ময়লা বা খাদ্যকনা পরিষ্কার হয় না, কারণ দাঁতের ফাঁকে ফাঁকে বা মাড়ির ভিতরে ভিতরে অনেক সময় খাদ্যকণা জমা থেকে পচন শুরু হয়। তাই যাদের দাঁতের ফাঁকে ফাঁকে খাদ্য জমা হয় বুঝতে হবে তাদের ডেন্টাল ফ্লস (এক ধরনের পিচ্ছিল সূতা) বা ডেন্টাল টুথ পিকস (এক ধরনের জীবাণু মুক্ত শলাকা)-এর সাহায্যে খাদ্য কণা গুলো বের করা প্রয়োজন। এই ডেন্টাল ফ্লস বা সূতো এবং জীবাণু মুক্ত শলাকা ব্যবহার বিধি একজন ডেন্টাল সার্জনের কাছ থেকে জেনে নেওয়া ভালো। অনেক সময় ফাঁক গুলো ডেন্টাল ক্যারিজ বা মাড়ির রোগের কারণেও হতে পারে, তাই কোনো সিদ্ধান্তের আগে ডেন্টাল এক্স-রে করিয়ে নেওয়ার পর নিশ্চিত হয়ে চিকিত্সার ব্যবস্থা নিতে হতে পারে
সবশেষে বলতে চাই বেলা খাবারের পর দাঁত ব্রাশ, বছরে দুবার দাঁত মুখ পরীক্ষা এবং নাক, কান,গলা সহ পেটের স্বাভাবিক অবস্থা থাকলে মুখের দুর্গন্ধ আপনার কাছেও আসবেনা

No comments:

Post a Comment